কাউন চালের ৩ রেসিপি
পুষ্টিবিদরা কাউন চালকে সুপারফুড হিসেবে পরামর্শ দেন। যার জন্য স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ খুব সহজেই কাউন চালকে খাবার হিসেবে বেছে নেন। মিষ্টান্ন পায়েস, ও ঝাল খাবার হিসাবে খিচুড়ি, পোলাও, ও চালভাজার জন্য কাউন চাল এখন স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ ও ভোজন-রসিকদের প্রিয় খাবার। এছাড়া সাদা ভাতও রান্না করা যায় এ চাল দিয়ে। আর এই খাবারগুলো খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি পুষ্টিগুণেও ভরপুর। অতিথি আপ্যায়নে, উৎসব-পার্বণে কাউনের পায়েসের বেশ প্রচলন আছে। বিস্কুট তৈরিতেও কাউন চাল ব্যবহৃত হয়।
কাউন চালের উপকারিতা
- ছোট দানাবিশিষ্ট কাউনের চালে আছে প্রোটিন, ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসহ আরো অনেক পুষ্টি উপাদান।
- যেকোনো দানাদার খাদ্য উপাদানের চাইতে কাউনের চালে আঁশ অনেক বেশি থাকে। তাই কাউনের চালের যেকোনো খাবার বানিয়ে খেলে পাকস্থলী ভালো থাকে।
- পর্যাপ্ত পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, জিংক ও আয়রন থাকায় কাউনের চাল নারীদের জন্য বিশেষ উপকারী খাদ্য।
- কাউনের চালে থাকা কিছু উপকারী উপাদান আমাদের রক্তে মিশে থাকা এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
- কাউনের চালে থাকা পটাশিয়াম আমাদের শরীরে লবণের ভারসাম্য বজায় রেখে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- কাউনের চালে পর্যাপ্ত পরিমাণ আঁশ থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
- এতে ভিটামিন সি রয়েছে। তাই নানা উপকারি খনিজ উপাদান দেহ গঠনে সাহায্য করে।
- আঁশযুক্ত খাবার খেলে পেট অনেক লম্বা সময় পর্যন্ত ভরা থাকে। ফলে ঘনঘন ক্ষুধাভাব দেখা দেয় না। এতে সহজেই ওজন কমানো সম্ভব হয়।
কাউন চালের সুস্বাদু পায়েস
কাউনের চালের পায়েস একটি ঐতিহ্যবাহী, পুষ্টিকর ও সুস্বাদু বাঙালি মিষ্টি খাবার। এটি মূলত দুধ, কাউনের চাল, এবং চিনি বা খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি করা হয়।
উপকরণঃ
কাউন চাল (১ কাপ), দুধ (২ লিটার), গুড় বা চিনি (স্বাদমতো), তেজপাতা (২টি), এলাচ (৩-৪টি), কিশমিশ ও বাদাম কুচি (পরিমাণমতো)।
প্রস্তুত প্রণালী:
- প্রথমে ১ কাপ কাউন চাল ভালো করে ধুয়ে নিন। কাদামাটি থাকতে পারে, তাই বারবার ধোয়া প্রয়োজন। তারপর ১ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন।
- আলাদা পাতিলে ২ লিটার দুধে তেজপাতা ও এলাচ দিয়ে মাঝারি আঁচে জ্বাল দিয়ে ফুটিয়ে ঘন করে নিন।
- এর মধ্যে এক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখা চাল দুধে দিয়ে মৃদু আঁচে চাল সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। ঘন হয়ে এলে গুড় বা চিনি, বাদাম ও কিশমিশ দিয়ে আরো ১০ মিনিট চুলায় রাখুন। মৃদু আঁচে চাল সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন, তারপর নামিয়ে ঠাণ্ডা করে পরিবেশন করুন।
কাউন চালের ভুনা খিচুড়ি রেসিপি
কাউন চালের খিচুড়ি একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর, ফাইবার সমৃদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহী খাবার, যা মুগ ডাল, গাজর, ফুলকপি ও মশলা দিয়ে খুব সহজে রান্না করা যায়। এটি সাধারণ ভাতের তুলনায় বেশি স্বাস্থ্যকর এবং ডায়াবেটিস বা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
উপকরণ
কাউন চাল (১ কাপ), মুগ ডাল (১/২ কাপ), পেঁয়াজ কুচি, আদা-রসুন বাটা, কাঁচামরিচ, জিরা/ধনে গুঁড়ো, তেজপাতা, গরম মশলা, আলু, গাজর, ফুলকপি, মটরশুঁটি এবং ঘি।
প্রস্তুত প্রণালী
- চাল ও ডাল ধোয়া: চাল ভালো করে ধুয়ে নিন। কাদামাটি থাকতে পারে, তাই বারবার ধোয়া প্রয়োজন। চাল ও ডাল দুটোই ভালো করে ধুয়ে অন্তত ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন।
- ডাল ভাজা: শুকনা কড়াইতে মুগ ডাল হালকা সোনালী করে ভেজে ধুয়ে নিন।
- ফোড়ন ও মশলা: কড়াইতে ঘি গরম করে তেজপাতা, গরম মশলা ও পেঁয়াজ ফোড়ন দিন। আদা-রসুন বাটা ও গুঁড়ো মশলা দিয়ে কষিয়ে নিন।
- রান্না: মশলা কষানো হলে সবজি ও চাল-ডাল দিয়ে কয়েক মিনিট ভাজুন। প্রয়োজনমতো গরম পানি ও লবণ দিয়ে ঢেকে দিন।
- দম: চাল ও ডাল সেদ্ধ হয়ে পানি শুকিয়ে এলে সামান্য ঘি ছড়িয়ে দমে রেখে নামিয়ে নিন।
টিপস: চাল-ডাল ভিজিয়ে রাখলে খিচুড়ি দ্রুত সেদ্ধ হয় এবং নরম হয়।
কাউন চালের ভাজা
আপনি যদি কাউন চালের ভাজা খেতে চান, তবে তার রেসিপিও রয়েছে। কাউন চালের ভাজা ঝরঝরে ও সুস্বাদু করার জন্য চাল ভালো করে ধুয়ে ১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে পানি ঝরিয়ে শুকিয়ে নিতে হয়। এরপর অল্প তেলে পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, হলুদ ও লবণ দিয়ে হালকা আঁচে ভাজলে চমৎকার স্বাদ পাওয়া যায়।
উপকরণ:
কাউন চাল (১ কাপ), পেঁয়াজ কুচি (১/৪ কাপ), কাঁচামরিচ (৩-৪টি), তেল/ঘি (২ টেবিল চামচ), হলুদ গুঁড়ো (১/২ চা চামচ), লবণ (স্বাদমতো), তেজপাতা (১টি)।
প্রস্তুত প্রণালী:
- ধোয়া ও শুকানো: কাউন চাল ভালো করে ধুয়ে নিন। কাদামাটি থাকতে পারে, তাই বারবার ধোয়া প্রয়োজন। তারপর অন্তত ১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ছাঁকনিতে পানি ঝরিয়ে ৫-১০ মিনিট বাতাসে ছড়িয়ে শুকিয়ে নিন, যাতে চাল ঝরঝরে হয়।
- ভাজা: প্যানে তেল বা ঘি গরম করে তেজপাতা ও পেঁয়াজ কুচি দিন। পেঁয়াজ সোনালী হলে হলুদ ও কাঁচামরিচ দিন।
- রান্না: চাল দিয়ে মাঝারি আঁচে ২-৩ মিনিট ভাজুন। চাল ভাজা হলে পরিমাণমতো গরম পানি (১ কাপ চালের জন্য সাধারণত ১.৫ থেকে ২ কাপ পানি) ও লবণ দিন।
- দম: পানি শুকিয়ে চাল সেদ্ধ হয়ে এলে ঢাকনা দিয়ে ৫-৭ মিনিট একদম মৃদু আঁচে (দমে) রাখুন।
- পরিবেশন: ঝরঝরে ভাজা চালের সাথে ডিম ভাজি বা বিভিন্ন ভর্তা দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।
টিপস: চালের গায়ের পানি পুরোপুরি শুকিয়ে নিলে ভাজাটি বেশ ঝরঝরে হয়।