এই ৩টা টিপস ফলো করলে ট্রাভেলিং-এ হাজার হাজার টাকা সেভ করা সম্ভব – আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি 
ট্রাভেল করতে চাও, কিন্তু বাজেটের চিন্তায় বারবার পিছিয়ে যাচ্ছো? আমি নিজেও একসময় এই ফেজের মধ্য দিয়ে গিয়েছি। কিন্তু এখন বুঝি, স্মার্ট প্ল্যানিং আর কিছু রিয়েল ট্রাভেল ট্রিকস জানলে খরচ অনেক কমিয়ে ফেলা যায়।
আজকে আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি – এমন ৩টা টিপস, যেগুলো শুধু টাকা বাঁচাতে না, তোমার ট্রাভেল এক্সপেরিয়েন্সটাকেও অনেক বেশি রিচ করে তুলবে।
 
 
১. অফ-সিজনে ট্রাভেল করো – খরচ কম, অভিজ্ঞতা বেশি
সবাই যখন ঘুরতে যায়, তখন না গিয়ে একটু অফ-সিজনে যাওয়ার চেষ্টা করো। দাম কম, জায়গাগুলো তুলনামূলক ফাঁকা, আর অভিজ্ঞতাটা অনেক বেশি প্রাইভেট লাগে।
আমি একবার Dubai গিয়েছিলাম আগস্টে – অনেকেই তখন ভয় পায় গরমের কারণে, কিন্তু হোটেল রেট ছিল অর্ধেক। আর শপিং ফেস্টিভ্যাল চলছিল, শপিং করে যা বেঁচেছি – ওইটায় পুরো ট্রিপের খরচ উঠে গেছে প্রায়।
Cox’s Bazar-এও গিয়েছিলাম মার্চের শুরুতে – যেখানে রিসোর্টের দাম সাধারণত ৬ হাজার, আমি পেয়েছিলাম ২২০০ টাকায়। ওই টাকায় একদিন এক্সট্রা থেকে আসা গিয়েছিল।
 
 
২. হোটেলের বদলে Airbnb বা লোকাল গেস্টহাউজ বেছে নাও
বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য Airbnb একটা স্মার্ট সলিউশন।
একই লোকেশনে যেখানেই হোটেলের খরচ হয় ৩০–৪০ হাজার, Airbnb-তে অনেক সময় তার অর্ধেক খরচে থাকার ব্যবস্থা পাওয়া যায়।
বিশেষ করে যদি তুমি একা না গিয়ে ২–৩ জন মিলে যাও, তাহলে পুরো ফ্ল্যাট বা স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট নিয়ে থাকা যায় – যেটাতে কুকিং সুবিধা সহ এক্সট্রা কমফোর্টও মেলে।
এছাড়া বুকিং.কম, Agoda বা লোকাল ফেসবুক পেজে খুঁজলেও অনেক ভালো মানের গেস্টহাউজ বা হোমস্টে পাওয়া যায়, যেগুলোর রেট অনেক বেশি অ্যাফোর্ডেবল।
৩. এয়ার টিকিট বুকিং-এ স্ট্র্যাটেজি থাকলে বাজেট সেভ হয় সবচেয়ে বেশি
সবচেয়ে বেশি খরচ হয় এয়ার টিকিটে। কিন্তু কিছু টেকনিক জানলে এখান থেকেই সবচেয়ে বড় সেভিংসটা করা যায়।
– টিকিট বুক করো ট্রাভেল টাইমের অন্তত ২–৩ সপ্তাহ আগে
– ইনকগনিটো মোডে সার্চ করো, কারণ অনেক সময় ওয়েবসাইট ভিজিট ট্র্যাক করে দাম বাড়িয়ে দেয়
– Google Flights, Skyscanner, Hopper – এই টুলগুলা ইউজ করো
– ফ্লেক্সিবল থাকো – মঙ্গলবার বা বুধবার ফ্লাইট নাও
– রাত ২টা–৪টার ফ্লাইট গুলা সাধারণত সস্তা পাওয়া যায়
 
 
৩ নাম্বার টিপসটা আবার বলছি – কারণ এটা মিস করলেই বাজেট ওভার
আমি Malaysia ট্রিপের জন্য একবার রিটার্ন টিকিট পেয়েছিলাম ১৭,৫০০ টাকায় – যেখানে বেশিরভাগ মানুষ ৩৫ হাজার পর্যন্ত দিয়ে থাকে।
এই ডিফারেন্সটা আসে শুধু একটু আগে বুকিং, ফ্লাইট টাইম বেছে নেয়া, আর সঠিক টুল ইউজ করার মাধ্যমে। 
 
 
শেষ কথাঃ
ট্রাভেল করার ইচ্ছা থাকলে প্রথমেই শিখে নাও কিভাবে খরচ কন্ট্রোল করতে হয়। বেশি খরচ মানেই ভালো ট্রিপ না – বরং কম খরচে বেশি এক্সপেরিয়েন্সই আসল জিনিস।
আর যদি তুমি একদম নতুন ট্রাভেলার হও, বুঝতেছো না কোথা থেকে টিকিট বা ভিসার প্রক্রিয়া শুরু করবে – তাহলে আমি সাজেস্ট করবো AAJ Travels -কে।
ওরা ট্রাস্টেড, ভিসা প্রসেসিং থেকে শুরু করে এয়ার টিকেট, হোটেল বুকিং, ট্যুর প্যাকেজ, এমনকি মেডিকেল ট্যুরিজম পর্যন্ত সব সাপোর্ট দেয় – এক জায়গা থেকেই সব ম্যানেজ করা যায়।
তোমার ট্রাভেল শুরু হোক বুদ্ধিমানের মতো – খরচ বাঁচাও, অভিজ্ঞতা বানাও।
 

লেখাঃ   Hamza Khan Shayan