বারান্দায় বা ছাদের টবে বাঁধাকপি চাষের পদ্ধতি
বাঁধাকপি শীতকালীন সবজি। আপনি ইচ্ছা করলে আপনার বাড়িতে চিলেকোঠা বা ছাদে অথবা ঘরের বারান্দায় অথবা বাড়ির আঙ্গিনায় বা উঠোনে এই বাধাকপির চাষ করতে পারেন। আসুন জেনে নেই কিভাবে এটি চাষ করবেন।
বাঁধাকপির খাদ্য গুণাগুণ
বাঁধাকপিতে অনেক ধরণের খাদ্যগুন বিদ্যমান। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ‘ রয়েছে। এছাড়াও অনেক ধরণের খাদ্যগুন রয়েছে বাঁধাকপিতে। বাঁধাকপির অনেক ওষুধি গুণাগুণ রয়েছে। বাঁধাকপি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বেশ উপকারী।
স্থান নির্ধারণ
বাসার বারান্দায় বা ছাদে এমন একটি স্থান বেছে নিন যেখানে প্রচুর আলো বাতাস পায়।
টব
বাঁধাকপি চাষের জন্য টব বা প্লাস্টিক অথবা কাঠের কনটেইনারও ব্যবহার করা যায়। মাঝারি সাইজের একটি টব বেছে নিন। প্লাস্টিকের বালতিতেও করতে পারেন।
মাঝারি আকৃতির টবে ১টি গাছের চাষ করা সম্ভব।
মাঝারি আকৃতির টবে ১টি গাছের চাষ করা সম্ভব।
মাটি প্রস্তুত
বাঁধাকপি চাষের জন্য দোআঁশ অথবা বেলে দোআঁশ মাটি সবচাইতে উত্তম। এই ধরনের মাটিতে বাঁধাকপি চাষ করলে আপনি ভাল ফলাফল পাবেন।
বীজ প্রস্তুত
ভালো বীজের বৈশিষ্ট্য হল তা রোগমুক্ত, পরিষ্কার, পরিপুষ্ট ও চিটামুক্ত হতে হবে। পাশাপাশি সকল বীজের আকার আকৃতি একই ধরনের হবে। সুস্থ সবল বীজ এনে মাটিতে লাগাতে হবে এবং নিয়মিত পানি দিতে হবে। কিছু দিন পর দেখা যাবে বীজ থেকে চারা অংকুর বের হবে।
বীজ রোপণ
বাড়িতে বাঁধাকপি চাষ করার জন্য উপযুক্ত সময় হল অগাস্ট মাস থেকে নভেম্বর মাস। এ সময় চারা রোপন করলে বাঁধাকপির ভাল ফলন পাওয়া যায়।
যত্ন
বাঁধাকপির গাছের সঠিকভাবে যত্ন নিতে হবে। গাছের গোড়ায় যেন আগাছা না জন্মে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আগাছা জন্মালে তা নিড়ানী দিয়ে উপড়ে ফেলতে হবে। এবং নিয়মিত গাছের পরিচর্যা করতে হবে। গাছে মরা পাতা থাকলে তা ফেলে দিতে হবে।
একই গাছ থেকে একই মৌসুমে চারটি কপির ফলন পেতে
সেপ্টেম্বরেই চারা লাগাতে হবে। প্রথম ফলন আসবে একটি করে নববই দিনে অথার্ৎ ডিসেম্বরে। দ্বিতীয় ফলনে তিনটি কপির জন্য ঐ কান্ডের পরিচর্যা শুরু করতে হবে প্রথম ফলন কেটে নেওয়ার পর থেকেই ডিস্বের থেকেই। প্রথম কপিটি কাটার সময় কপির নিচদিকের ৩/৪ টিপাতা কান্ডের সংগে রেখে কাটতে হবে। ঐ পাতাগুলোর সংযোগস্থল থেকেই নতুন কপির জন্ম হবে। দ্বিতীয় ফলনে তিনটি করে বাঁধাকপি আসবে ৫০/৬০ দিনে অথার্ৎ ফেব্রুয়ারী মেষ নাগাদ।
ফসল তোলা
চারা রোপণের ৭০ থেকে ৮০ দিন পর ফসল সংগ্রহ করা যায়। গাছে যখন বাঁধাকপি উপযুক্ত আকারে বড় হবে তখনই বাঁধাকপি সংগ্রহ করতে হবে।
সবশেষে
এটা টবে চাষের পদ্ধতি, তাই পোকা-মাকড় সংক্রমণ, বা চিকিৎসা ইত্যাদি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। যেহেতু আপনি আপনার বাসার ছাদে বা বারান্দায় করবেন, তাই তা অবাণিজ্যিক। আর সেই জন্য কোন সমস্যা হলে তার চিকিৎসা করতে হলে উল্টো আরো ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। যদি বড় ধরনের ঝামেলা হয়, নতুন ভাবে চাষ করাই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।
