বারান্দায় বা ছাদের টবে শিম চাষের পদ্ধতি
শিম আমদের দেশে একটি শীতকালীন সবজি। শিমের চাষ করার জন্য উপযোগী হচ্ছে রোদ ও আলো বাতাসময় একটু উঁচু জায়গা যেখানে পানি জমে না। এটি ছোট বড় প্রায় সকলেরই একটি প্রিয় তরকারী। এটি খেতে অনেক পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও উপাদেয় সবজি। বর্তমানে ব্যাপকহারে এই শিমের চাষ করা হচ্ছে। আসুন জেনে নেই শিম চাষ করার পদ্ধতি।

শিমের খাদ্যগুন
শিমের কচি শুঁটির বীজে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও শ্বেতসার থাকে বলে খাদ্য হিসেবে খুবই উপকারী। তা ছাড়া এতে যথেষ্ট পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ থাকে। আমাদের দেহের পুষ্টিসাধনে এসব পুষ্টি উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
স্থান নির্ধারণ
শিম ঠাণ্ডা শুষ্ক জলবায়ুতে ভাল হয়। গাছের দৈহিক বৃদ্ধির জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু এবং দীর্ঘ দিবসের দরকার হয়। গাছ যখনই লাগানো হোক না কেন দিনের দৈর্ঘ্য একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে না পৌঁছা পর্যন্ত ফুল ও ফল ধরে না।
টব
চাষের জন্য টব বা প্লাস্টিক অথবা কাঠের কনটেইনারও ব্যবহার করা যায়। মাঝারি সাইজের একটি টব বেছে নিন। প্লাস্টিকের বালতিতেও করতে পারেন।
মাঝারি আকৃতির টবে ৬টি গাছের চাষ করা সম্ভব।
মাটি প্রস্তুত
;
;
দোঁ-আশ ও বেলে দোঁ-আশ মাটিতে শিম ভালো ফলন হয়। নদীর তীরের উর্বর পলিমাটিতেও শিম ভালো হয়। বর্তমানে আমাদের দেশে গ্রীষ্মকালীন জাত উদ্ভাবিত হওয়ায় গ্রীষ্মকালেও ফল ধরছে।
বীজ রোপণ
শিমের চারা লাগানোর ক্ষেত্রে প্রথমে আপনাকে চারা তৈরি করে নিতে হবে। প্রতিটি পাত্রে ১০-১২ টি করে বীজ বুনে দিতে হবে। এরপর যখন বীজ থেকে চারা উৎপাদিত হবে তখন প্রতিটি টবে সবল সুস্থ্য চারা রেখে দুর্বল চারা উপড়ে ফেলতে হবে। চারা গজানোর পর প্রথম দিকে নিয়মিত পানি দিতে হবে। এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত গরম পড়লে বেশী পানি দিতে হবে।
যত্ন
- গাছের চারা একটু বড় হলে একটা ছোট লাঠি অথবা বাঁশ দিয়ে গাছকে বেঁধে দিতে হবে। এরপর যত্নসহকারে মাচা তৈরি করে দিতে হবে।
- কোনো অবস্থাতেই গাছের গোড়ায় পানি যাতে না জমে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শুষ্ক মৌসুমে জমিতে প্রয়োজনমতো সেচ দিতে হবে।
- গাছের গোড়ায় যদি কোনপ্রকার আগাছা জন্ম নেয় কিংবা কোনো ধরণের লতানো গাছ দেখা যায় তবে তা সাথে সাথে নির্মূল করতে হবে
ফসল তোলা
জাতভেদে বীজ বোনার ৩ মাস থেকে ৫ মাসের মধ্যে শিম তোলা যায়। শিম গাছে ফুল ফোটার ২০ থেকে ২৫ দিন পর ফসল সংগ্রহ করা যায়।
সবশেষে
এটা টবে চাষের পদ্ধতি, তাই পোকা-মাকড় সংক্রমণ, বা চিকিৎসা ইত্যাদি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। যেহেতু আপনি আপনার বাসার ছাদে বা বারান্দায় করবেন, তাই তা অবাণিজ্যিক। আর সেই জন্য কোন সমস্যা হলে তার চিকিৎসা করতে হলে উল্টো আরো ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। যদি বড় ধরনের ঝামেলা হয়, নতুন ভাবে চাষ করাই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।