বারান্দায় বা ছাদের টবে ধুন্দল চাষের পদ্ধতি
ধুন্দল সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। বর্তমানে দুই ধরণের ধুন্দল পাওয়া যায়। একটি হল যেটা আমরা সাধারণত খাই। এর শাঁস তিতা নয় সুস্বাদু এবং নরম। অন্যটি হলো বন্য ধুন্দল, যাকে তিতপল্লা বলা হয়। এর পাকা ফল শুকিয়ে স্পঞ্জের মতো গায়ে সাবান মাখার খোসা তৈরি করা হয়। আসুন জেনে নেই কিভাবে খাওয়ার ধুন্দল চাষ করতে হবে।
স্থান নির্ধারণ
বাসার বারান্দায় বা ছাদে এমন একটি স্থান বেছে নিন যেখানে প্রচুর আলো বাতাস পায়।
টব
চাষের জন্য টব বা প্লাস্টিক অথবা কাঠের কনটেইনারও ব্যবহার করা যায়। মাঝারি সাইজের একটি টব বেছে নিন। প্লাস্টিকের বালতিতেও করতে পারেন।
মাঝারি আকৃতির টবে ৩ টি গাছের চাষ করা সম্ভব।
মাটি প্রস্তুত
ধুন্দল চাষে জমির প্রথম শর্ত হচ্ছে পানি জমে থাকে না, গাছের কোনো ছায়া থাকে না এমনভাবে মাটি প্রস্তুত করতে হবে। ধুন্দলের বাড়বাড়তি ও ভালো ফলনের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া দরকার হয়। উর্বর দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি ধুন্দল চাষের জন্য উত্তম। বীজ গজানো ও গাছের বৃদ্ধির জন্য গরম আবহাওয়ার দরকার হয়। ছায়া জায়গায় গাছ ভাল হয় না।
বীজ প্রস্তুত
চারা লাগানোর ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ধুন্দলের চারা তৈরি করে নিতে হবে। ভালো জাতের বীজ নির্বাচন করতে হবে। বীজ বপনের ২৪ ঘণ্টা আগে ভিজিয়ে রাখতে হবে। পলিব্যাগে, কলার খোলে বা বেড তৈরি করে চারা তৈরি করে নেয়া যায়। প্রতি মাদায় ৪-৫ টি বীজ পুঁতে দিতে হবে। তবে মনে রাখবেন পলিব্যাগে চারা তৈরি করা নিরাপদ। এক্ষেত্রে অর্ধেক জৈব সার ও অর্ধেক মাটি পলিব্যাগে ভরতে হবে। এরপর উক্ত মাটি দ্বারা পলিব্যাগ ভরতে হবে। পলিব্যাগের মাটি ভরাট করার পরে রেখে দিতে হবে। এবং উপরে ছাউনি দিয়ে দিতে হবে। যাবে রোদ, বৃষ্টি না লাগে। মাঝেমধ্যে পলিব্যাগের মধ্যে ঝাঁঝরি দিয়ে পানি সেচ দিয়ে পলিব্যাগের মাটিতে চারা লাগানোর জো আনতে হবে। এরপর প্রতিটি ব্যাগে ২ থেকে ৩ টি চারা রোপন করতে হবে। চারা দুপাতা হলে প্রতি পলিব্যাগে একটি করে চারা রেখে বাকি চারা তুলে ফেলতে হবে। সরাসরি মাদায় বিজ বুনে ও চারা লাগিয়ে ধুন্দুলের চাষ করা যায়।
বীজ রোপণ
ফেব্রুয়ারী মাসে ধুন্দল চাষের প্রস্তুতি নেয়া যায়। ফেব্রুয়ারী থেকে মার্চ মাস বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। বীজের আঁকারের দ্বিগুণ গভীরে বীজ বপন করা ভাল। পলিব্যাগ থেকে চারা অপসারনের সময় পলিব্যাগে পানি সেচ দিতে হবে। তাহলে চারা অপসারনের সময় চারার শেকড় ভেঙে বের হবে না বা নষ্ট হবে না। বিকেলবেলা চারা রোপন করতে হবে এতে চারা কম মরে। চারা লাগানর পরে চারার গোঁড়া মাটি দিয়ে টিপে দিতে হবে। এরপর পানি সেচ দিতে হবে।
যত্ন
বিশেষ করে প্লাস্টিকে কন্টেইনার ব্যবহার করলে অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়া জন্য আগেই কন্টেইনারটিতে কয়েকটি ছোট ছিদ্র করে নিতে পারেন। ধুন্দল চাষের সময় সাধারনত ঘন ঘন বৃষ্টি হয়। বৃষ্টি বেশি হলে পানি দেয়ার দরকার নেই। মাটিতে আদ্রতা কম থাকলেই সেচ দেয়া প্রয়োজন। খেয়াল রাখবেন ধুন্দল গাছের মাটি শুকিয়ে গেলে ফুল ঝরে যায়। ফেব্রুয়ারীর মাসের শেষের দিক থেকে এপ্রিল মাসের শেষের দিক পর্যন্ত খরা থাকে। এ সময় ৫-৬ দিন অন্তর অন্তর পানি দিতে হবে।
ফসল তোলা
বীজ বপনের ৪০-৪৫ দিনের মধ্যে ফসল সংগ্রহ শুরু করা যায়। খাওয়ার জন্য কচি থাকতেই সবুজ রঙের ধুন্দল তুলতে হবে। খোসা শক্ত হয়ে এলে তা আর খাওয়ার উপযুক্ত থাকে না।
সবশেষে
এটা টবে চাষের পদ্ধতি, তাই পোকা-মাকড় সংক্রমণ, বা চিকিৎসা ইত্যাদি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। যেহেতু আপনি আপনার বাসার ছাদে বা বারান্দায় করবেন, তাই তা অবাণিজ্যিক। আর সেই জন্য কোন সমস্যা হলে তার চিকিৎসা করতে হলে উল্টো আরো ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। যদি বড় ধরনের ঝামেলা হয়, নতুন ভাবে চাষ করাই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।
