বারান্দায় বা ছাদের টবে লাউ চাষের পদ্ধতি
লাউ সুস্বাদু সবজি। লাউ এমন একটি সবজি যার ফল ও ডগা উভয়ই খাওয়া যায়। লাউ যে কোন সময় সকল প্রকার মাটিতে চাষ করা যায়। লাউ পৃথিবীর প্রাচীন সবজিগুলোর মধ্যে অন্যতম। লাউ প্রধানত শীত মৌসুমের সবজি। শীতকালে ফলন বেশি পাওয়া যায়।বর্তমানে সারাবছরই এ সবজিটি পাওয়া যায়।
লাউয়ের খাদ্য গুনাগুণ
লাউয়ের মধ্যে অনেক খাদ্য গুণাগুণ বিদ্যমান। লাউয়ে রয়েছে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস, যা দেহের ঘামজনিত লবণের ঘাটতি দূর করে। ক্যালরির পরিমাণ কম থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও লাউ যথেষ্ট উপকারী। দাঁত ও হাড়কে মজবুত করে। ডায়েটিং কালেও লাউ ভালো ফল দেয়। চুলের গোড়া শক্ত করে এবং চুল পেকে যাওয়ার হার কমায়। এছাড়াও লাউয়ের অনেক ঔষধি গুণাগুণ আছে। লাউয়ে প্রচুর পানি থাকে, যা দেহের পানির পরিমাণ ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এবং লাউ খাওয়ার ফলে ডায়রিয়া জনিত পানিশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে। লাউ খেলে ত্বকের আর্দ্রতা ঠিক থাকে। উচ্চ রক্তচাপবিশিষ্ট রোগীদের জন্য এটি একটি আদর্শ সবজি। এছাড়াও লাউ প্রস্রাবের সংক্রমণজনিত সমস্যা দূর করে। এবং কিডনির কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এই সবজি দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। কোষ্ঠকাঠিন্য, অর্শ, পেট ফাঁপা প্রতিরোধে সহায়ক। ইনসমনিয়া বা নিদ্রাহীনতা দূর করে পরিপূর্ণ ঘুমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
স্থান নির্ধারণ
বাসার বারান্দায় বা ছাদে এমন একটি স্থান বেছে নিন যেখানে প্রচুর আলো বাতাস পায়।
টব
লাউ চাষের জন্য টব বা প্লাস্টিক অথবা কাঠের কনটেইনারও ব্যবহার করা যায়। মাঝারি সাইজের একটি টব বেছে নিন। প্লাস্টিকের বালতিতেও করতে পারেন।
মাঝারি আকৃতির টবে ৩টি গাছের চাষ করা সম্ভব।
মাটি প্রস্তুত
উষ্ণ বা অব-উষ্ণ অঞ্চলে লাউ ভালো হয়। বাংলাদেশে প্রায় সব ধরণের মাটিতে লাউ চাষ করা যায়। তবে বেলে দো-আঁশ মাটি বেশি উপযোগী। মেঘলা অবহাওয়ায় লাউয়ের ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। তবে একটি বিষয় লক্ষণীয়, আলো-বাতাস এবং তাপমাত্রা ভালো ফল উৎপাদনে ভূমিকা রাখে।
বীজ প্রস্তুত
বীজ বপনের জন্য মাদায় তৈরি করতে হবে। একটি মাদায় ৪-৫টি বীজ লাগাতে হবে। বীজ ৪-৫ দিনের মধ্যেই অঙ্কুরিত হলে ২-৩টি সুস্থ সবল চারা রেখে বাকি চারা তুলে ফেলতে হবে। লাউয়ের বীজ বপনের জন্য পলিব্যাগ বা কলাপাতার ঠোঙায় চারা তৈরি করে প্রতি মাদায় একটি করে সবল চারা রোপন করা ভাল।
বীজ রোপণ
বর্তমানে যেহেতু লাউ বার মাস কালই পাওয়া যায় সেহেতু বীজও বপন করা যায় বিভিন্ন সময়ে। বীজের আকারের দ্বিগুণ মাটির গভীরে বীজ পুঁতে দিতে হবে।
যত্ন
- লাউ গাছে প্রতিদিন সকাল-বিকাল পানি দিতে হবে। এছাড়াও মাছ-মাংস ধোয়া পানি মাঝে মধ্যে দিলে উপকার পাওয়া যায়। ছাদের গাছে পানি একটু বেশি প্রয়োজন হয়। তবে মাটির অবস্থা বুঝে লাউ গাছে পানি দিতে হবে। লাউ গাছ দাঁড়ানো পানি একদমই সহ্য করতে পারে না। আবার খরায় গাছ ঢলে পড়ে ও প্রায় ৯০ শতাংশ কচি ফল ঝরে যায়। লাউয়ের টব ভাসিয়ে পানি দেয়া যাবে না। বিশেষ করে প্লাস্টিকে কন্টেইনার ব্যবহার করলে অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়া জন্য আগেই কন্টেইনারটিতে কয়েকটি ছোট ছিদ্র করে নিতে পারেন।
- গাছ বড় হওয়ার সাথে সাথে (১৫-২০ সেমি. হলে) গাছের গোড়ার পাশে পাট খড়ি বা বাঁশের কঞ্চি মাটিতে পুঁতে দিতে হবে। লাউয়ের মাচা যেন বেশ বড় হয়।
- লাউ গাছ যেন যথেষ্ট সূর্যের আলো ও বাতাস পায়। এবং মাঝে মঝে মাটি নিড়ানি দিয়ে আলগা করে ঝুরঝুরে করে দিতে হবে। লাউয়ের গাছে বা ক্ষেতে আগাছা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রন করতে হবে। কারণ লাউ ক্ষেতে সকল প্রকার আগাছা লাউয়ের ক্ষেত হতে পুষ্টি উপাদান শোষন করে।
- লাউ গাছ বেশি বেড়ে গেলে মাঝে মাঝে আগা কর্তন করতে হবে।
ফসল তোলা
- লাউ যে কোন সময় সংগ্রহ করা যায়। তবে গাছে ফুল আসার কিছুদিন পরে দেখা যায় লাউ ধরতে। লাউ ধরার অন্তত ২ মাসের মধ্যে লাউ খাওয়ার উপযোগী হয়ে ওঠে। তখন থেকে আপনি লাউ সংগ্রহ করতে পারেন। লাউ এমন এক প্রকার লতানো উদ্ভিদ যা এর ফলের জন্যে চাষ করা হয়, যা কিনা কাচা অবস্থায় সবজি হিসেবে খাওয়া হয়, আর পরিপক্ব অবস্থায় শুকিয়ে এটি বোতল, পাত্র বা নল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- একটি লাউ গাছ থেকে আপনি অন্তত ১৫ থেকে ২০টি লাউ পেতে পারেন।
সবশেষে
এটা টবে চাষের পদ্ধতি, তাই পোকা-মাকড় সংক্রমণ, বা চিকিৎসা ইত্যাদি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। যেহেতু আপনি আপনার বাসার ছাদে বা বারান্দায় করবেন, তাই তা অবাণিজ্যিক। আর সেই জন্য কোন সমস্যা হলে তার চিকিৎসা করতে হলে উল্টো আরো ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। যদি বড় ধরনের ঝামেলা হয়, নতুন ভাবে চাষ করাই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।
