বারান্দায় বা ছাদের টবে চাল কুমড়া চাষের পদ্ধতি
চাল কুমড়া একটি পরিচিত সবজি। এই চালকুমড়ার শুধু মাত্র সবজি হিসেবে খাওয়া ছাড়াও এর কচি পাতা ও ডগা খাওয়া হয়। কচি কুমড়া তরকারী হিসেবে এবং পরিপক্ক কুমড়া মোরব্বা ও হালুয়া তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
আপনি ইচ্ছা করলে আপনার বাড়ির চিলেকোঠা বা ছাদে অথবা বাড়ির আঙ্গিনায় বা উঠোনে এই চালকুমড়ার চাষ করতে পারেন। আসুন জেনে নেই কিভাবে আপনি আপনার বাড়িতে এই কুমড়ার চাষ করবেন।

চালকুমড়ার খাদ্য গুণাগুণ
চালকুমড়ার মধ্যে অনেক ধরনের খাদ্যগুনাগুন রয়েছে। এটি একটি পুষ্টিকর সবজী। চাল কুমড়াই বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন, আমিষ, শর্করা, চর্বি ও ক্যালসিয়াম রয়েছে। চালকুমড়ার অনেক ধরনের ওষুধি গুন রয়েছে। চাল কুমড়ার বড়ি ও মোরব্বা ফুসফুসের জন্য উপকারী। চালকুমড়ার রসের সাথে চিনি মিশিয়ে খেলে অজির্ণ রোগ ভাল হয়। এবং চাল কুমড়ার বীজ কৃমি নাশ করে থাকে।
স্থান নির্ধারণ
বাসার বারান্দায় বা ছাদে এমন একটি স্থান বেছে নিন যেখানে প্রচুর আলো বাতাস পায়।
টব
চাষের জন্য টব বা প্লাস্টিক অথবা কাঠের কনটেইনারও ব্যবহার করা যায়। মাঝারি সাইজের একটি টব বেছে নিন। প্লাস্টিকের বালতিতেও করতে পারেন।
মাঝারি আকৃতির টবে ৫টি গাছের চাষ করা সম্ভব।
মাটি প্রস্তুত
আমাদের দেশে প্রায় সবধরণের মাটিতে চালকুমড়ার চাষ করা যায়। তবে দো-আঁশ ও এটেল দো-আঁশ মাটিতে চালকুমড়ার চাষ ভাল হয়।
বীজ রোপণ
চালকুমড়া সধারণত সারা বছর চাষ করা যায়। তবে মার্চ মাস থেকে জুন মাস পর্যন্ত চালকুমড়া লাগানোর উত্তম সময়। এসময় চাষ করলে চালকুমড়ার ভাল ফলন পাওয়া যায়।
চালকুমড়ার চারা লাগানোর ক্ষেত্রে প্রতিটি টবে ৫-৬ টি করে বীজ বপন করতে হবে। এরপর যখন বীজ থেকে চারা উৎপাদিত হবে তখন প্রতিটি টবে সবল সুস্থ্য চারা রেখে দুর্বল চারা উপড়ে ফেলতে হবে। চারা গজানোর পর প্রথম দিকে নিয়মিত পানি দিতে হবে। এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত গরম পড়লে বেশী পানি দিতে হবে।
যত্ন
- চালকুমড়া গাছের চারা একটু বড় হলে একটা ছোট লাঠি অথবা বাঁশ দিয়ে গাছকে বেঁধে দিতে হবে। এরপর যত্নসহকারে মাচা তৈরি করে দিতে হবে।
- চালকুমড়া চাষে প্রধান শত্রু হল "মাছি" পোকা। এই পোকা চালকুমড়ার অনেক ক্ষতি করে। এই পোকার আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য পোকা দেখা মাত্র মেরে ফেলা উত্তম। এছাড়াও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ করা, পোকা মারার ফাঁদ তৈরি করা এবং বিষটোপ ব্যবহার করা যেতে পারে।
- গাছের গোড়ায় যদি আগাছা জন্মে তাহলে আগাছা পরিষ্কার করে দিতে হবে। মাঝে মাঝে অতিরিক্ত আগা ও লতাপাতা ছাটাই করে দিতে হবে।
ফসল তোলা
চালকুমড়া লাগানোর অন্তত দুই মাসের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। যদি চালকুমড়া সবজি হিসেবে খেতে চান তাহলে সবুজ হুল যুক্ত ৪০০-৬০০ গ্রাম হলে তুলতে হবে। মোরব্বা বা বড়ি দেওয়ার জন্য পরিপক্ক করে অন্তত চার মাস পরে তুলতে হবে।
সবশেষে
এটা টবে চাষের পদ্ধতি, তাই পোকা-মাকড় সংক্রমণ, বা চিকিৎসা ইত্যাদি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। যেহেতু আপনি আপনার বাসার ছাদে বা বারান্দায় করবেন, তাই তা অবাণিজ্যিক। আর সেই জন্য কোন সমস্যা হলে তার চিকিৎসা করতে হলে উল্টো আরো ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। যদি বড় ধরনের ঝামেলা হয়, নতুন ভাবে চাষ করাই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।