বারান্দায় বা ছাদের টবে রসুন চাষের পদ্ধতি

রসুন পৃথিবীর অনেক প্রাচীন একটি ফসল। মসলা হিসেবে রসুনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে রসুনকে শুধু মসলাই বলা যাবে না। কারণ রসুনে অনেক ঔষধী গুণ রয়েছে। আসুন জেনে নেই রসুন চাষ করার পদ্ধতি।




রসনের উপকারিতা
  • রসুন উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রন করতে সাহায্য করে।
  • রক্তে কোলেস্টেরল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে কাঁচা রসুন চিবিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
  • সর্দি কাশিতেও রসুন উপকারী।
  • রসুনকে বলা হয়  ন্যাচারাল পেইন কিলার। শিশু কিংবা বড়দের দাঁতে ব্যথা হলে এক কোষ রসুন চিবালে দাঁতে ব্যথা উপশম হয়।
  • রসুন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
  • রসুনে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমানে আমিষ, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন বি৬ এবং ভিটামিন সি।
  • রসুন হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
  • নিয়মিত রসুন খেলে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসজনিত রোগের ঝুঁকি কমে যায়।

 
স্থান নির্ধারণ
 
বাসার বারান্দায় বা ছাদে এমন একটি স্থান বেছে নিন যেখানে প্রচুর আলো বাতাস পায়।

 
টব
 
রসুন চাষের জন্য টব বা প্লাস্টিক অথবা কাঠের কনটেইনারও ব্যবহার করা যায়। মাঝারি সাইজের একটি টব বেছে নিন। প্লাস্টিকের বালতিতেও করতে পারেন।
 
মাঝারি আকৃতির টবে ২০টি গাছের চাষ করা সম্ভব।

 
মাটি প্রস্তুত
 
রসুন উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুতে ভাল জন্মে।  পলি দোআঁশ মাটি অর্থাৎ জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ ও সহজেই গুড়া হয় এমন মাটি রসুন চাষের উপযোগী।  রসুনের গাছের পরিপক্কতার সময় আবহাওয়া অবশ্যই শুষ্ক থাকা দরকার। খেয়াল রাখবেন শক্ত এঁটেল মাটি রসুন চাষের অনুপযুক্ত।

 
বীজ প্রস্তুত
 
রসুনের বীজ হয় না। শুল্ক কন্দের কোয়ার সাহায্যে বংশবিস্তার করা হয় এবং প্রতিটি শল্ক কন্দে ১০-১৫ টি কোয়া থাকে ও সবল রসুনের কোয়া রোপণ করা হয়।

 
বীজ রোপণ
 
মধ্য অক্টোবর থেকে শেষ অক্টোবরের মধ্যে রোপণ করা উত্তম।
 
মাটি একেবারে ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। কোয়াগুলো হাতের দু´ আঙ্গুলে ধরে ৩-৪ সে.মি. মাটির গভীরে রোপন করতে হবে।  মাঝারী থেকে বড় সাইজের কোয়া রোপনের জন্য ব্যবহার করতে হবে। সমস্ত জমি প্রায় ৭ সে.মি. পুরু খড় দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।

 
যত্ন
 
বিশেষ করে প্লাস্টিকে কন্টেইনার ব্যবহার করলে অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়া জন্য আগেই কন্টেইনারটিতে কয়েকটি ছোট ছিদ্র করে নিতে পারেন।
 
রোপনের এক মাস পরে খড়ের ঢাকনার ভিতর দিয়ে উঠিয়ে আগাছাগুলো সাবধানে তুলে ফেলতে হবে। উপরি সার প্রয়োগের পর পর হালকা সেচ দিতে হবে। অতিরিক্ত পানি যাতে দাড়িয়ে থাকতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে ও প্রয়োজনে জমির পানি বের করার জন্য নালা রাখতে হবে।

 
ফসল তোলা
 
রসুন গাছের পাতা হলুদ থেকে বাদামী রং ধারণ করে ভেঙ্গে পড়লে উত্তোলন করার জন্য উপযোগী হয়। রসুনের আকার বড় হলে সংগ্রহ করা উচিত।

 
সংরক্ষণ
 
তোলার পর ২-৩ দিন অল্প রোদে শুকিয়ে রসুন সংরক্ষণ করা যায়। ছায়াতে শুকাতে পারলে ভাল গুণাগুণ বজায় থাকে। রোদে শুকালে রসুন নরম হয়ে যেতে পারে।

 
সবশেষে
 
এটা টবে চাষের পদ্ধতি, তাই পোকা-মাকড় সংক্রমণ, বা চিকিৎসা ইত্যাদি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। যেহেতু আপনি আপনার বাসার ছাদে বা বারান্দায় করবেন, তাই তা অবাণিজ্যিক। আর সেই জন্য কোন সমস্যা হলে তার চিকিৎসা করতে হলে উল্টো আরো ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। যদি বড় ধরনের ঝামেলা হয়, নতুন ভাবে চাষ করাই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।