বারান্দায় বা ছাদের টবে আদা চাষের পদ্ধতি

আদা একটি মূল্যবান ও জনপ্রিয় মশলাজাতীয় ফসল। ভেষজ গুণ থাকায় আদা কাঁচা ও শুকনা দুভাবেই ব্যবহার করা যায়। আসুন জেনে নেই আদা চাষ করার পদ্ধতি।



ভেষজ গুণ

আদা শরীরের জন্য খুবই উপকারি।আদা দেহের অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করে। আদার রস খেলে আহারের রুচি আসে এবং ক্ষুধা বাড়ে। আদার রস মধু মিশিয়ে খেলে কাশি দূর হয়। আদার রস পেট ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। আদা মল পরিষ্কার করে এবং পাকস্থলী ও লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে। আদার রস রক্তশূন্যতা দূর করে ও শরীর শীতল রাখে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে এবং রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কার্যকরভাবে কমাতে সাহায্য করে আদা। রক্তনালির ভেতরের রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।


স্থান নির্ধারণ

আদা চাষ করার জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু পূর্ণ আবহাওয় দরকার। সামান্য ছায়াযুক্ত স্থানে আদা চাষ ভাল হয়। 


টব

আদা চাষের জন্য টব বা প্লাস্টিক অথবা কাঠের কনটেইনারও ব্যবহার করা যায়। মাঝারি সাইজের একটি টব বেছে নিন। প্লাস্টিকের বালতিতেও করতে পারেন।

মাঝারি আকৃতির টবে ১০টি আদা গাছের চাষ করা সম্ভব।


মাটি প্রস্তুত

আদা চাষের জন্য উঁচু বেলে দো-আঁশ, বেলে ও এঁটেল দো-আঁশ মাটি উত্তম। আদা চাষের জন্য মাটি ঝুরঝুরে করে জমি প্রস্তুত করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে আদা চাষ করার টবে যেন পানি না জমে।


বীজ প্রস্তুত

আদা বীজ আধা ঘন্টা পর্যন্ত ভিজিয়ে তুলে ছায়াযুক্ত স্থানে শুকিয়ে নেয়ার পর প্রস্তুকৃত টবে আদার বীজ রোপণ করতে হবে।


বীজ রোপণ

আদার বীজ বপনের সঠিক সময় মধ্য মার্চ-এপ্রিল মাস। সঠিক সময়ে আদার বীজ বপন করতে হবে।


যত্ন

বিশেষ করে প্লাস্টিকে কন্টেইনার ব্যবহার করলে অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়া জন্য আগেই কন্টেইনারটিতে কয়েকটি ছোট ছিদ্র করে নিতে পারেন।


ফসল তোলা

ফসল পরিপক্ক হতে সাধারণত ৮ মাস সময় লাগে। নভেম্বর ডিসেম্বর মাসে আদা তুলতে হবে।
নির্বাচিত গাছ সম্পূর্ণভাবে শুকিয়ে যাওয়ার ১৫ থেকে ২০ দিন পর বীজ আদা সংগ্রহ করতে হবে।


সবশেষে

এটা টবে চাষের পদ্ধতি, তাই পোকা-মাকড় সংক্রমণ, বা চিকিৎসা ইত্যাদি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। যেহেতু আপনি আপনার বাসার ছাদে বা বারান্দায় করবেন, তাই তা অবাণিজ্যিক। আর সেই জন্য কোন সমস্যা হলে তার চিকিৎসা করতে হলে উল্টো আরো ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। যদি বড় ধরনের ঝামেলা হয়, নতুন ভাবে চাষ করাই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।