বারান্দায় বা ছাদের টবে গাজর চাষের পদ্ধতি
শীতকালীন
সবজি হিসেবে গাজর যেমন পরিচিত তেমন জনপ্রিয়ও বটে। এটি একটি পুষ্টিকর সবজি
এবং অনেকেই এই সবজি পছন্দ করেন। আপনিও ইচ্ছা করলে আপনার চিলেকোঠা বা ছাদে
অথবা ঘরের বারান্দায় অথবা বাড়ির আঙ্গিনায় বা উঠোনে গাজর চাষ করতে পারেন।
আসুন জেনে নেই কিভাবে চিলেকোঠা বা ছাদে অথবা ঘরের বারান্দায় অথবা বাড়ির
আঙ্গিনায় বা উঠোনে গাজর চাষ করতে হবে।
স্থান নির্ধারণ
বাড়ির ছাদে বা উঠানে বা আঙিনায় গাজর চাষ করার জন্য আপনি ইচ্ছা করলে যেকোন ধরণের মাটিতে গাজর চাষ করতে পারেন। তবে গাজর চাষ করার জন্য বেলে দো-আঁশ মাটি সবচাইতে ভাল। এবং খেয়াল রাখতে হবে এক্ষেত্রে ঝুরঝুরে মাটি হতে হবে।
টব
গাজর চাষের জন্য সঠিক মাপের পাত্র নির্বাচন করতে হবে। এক্ষেত্রে মাঝারি সাইজের টব বা ড্রাম ব্যবহার করতে পারেন। তবে যে পাত্রই নির্বাচন করুন না কেন খেয়াল রাখতে হবে পাত্রের বা টবের পানি যেন দ্রুত নিষ্কাশিত হতে পারে সে ব্যবস্থা রাখতে হবে। সাধারণত ছাদে গাজরের চারা লাগানোর জন্য ১০-১২ ইঞ্চি মাটির টব ব্যবহার করাই উত্তম। টবের তলার ছিদ্রগুলো ইটের ছোট ছোট টুকরা দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে।
মাঝারি আকৃতির টবে ১০টি গাজর গাছের চাষ করা সম্ভব।
মাটি প্রস্তুত
দোআঁশ ও বেলে-দোআঁশ মাটি সব চাইতে উপযোগী৷ মাটিতে প্রচুর জৈব সার থাকতে হয়। এক ভাগ মাটি ও এক ভাগ জৈব সার নিয়ে ভালোভাবে ঝুরা করে মিশিয়ে নিন। মাটি খুব শুকনো হলে একটু পানি দিয়ে ভিজিয়ে মেশান।
জাত বাছাই
সাধারণত দুই ধরণের গাজর চাষ করা হয়ে থাকে। একটি হল গ্রীষ্মকালীন এবং অপরটি নাতিশীতোষ্ণ। কালো, লাল, বেগুনে ও হলদে বিভিন্ন রঙে পাওয়া যায়। গ্রীষ্মকালীন জাতের মধ্যে রয়েছে পুসা কেশর, পুসা মেঘালি ও অরেঞ্জ জিনো।
বীজ প্রস্তুত
ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় গাজর ভালো জন্মে। সাধারণত নভেম্বর মাসে গাজরের বীজ বপন করা হয়। সমতল অঞ্চলে আগস্ট থেকে ডিসেম্বর ও পাহাড়ি এলাকায় মার্চ থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত বোনা যায়। আগাম ফসল উৎপাদনের জন্য সেপ্টেম্বর মাসে বীজ বপন করা যায়। তবে অক্টোবরের শেষ ভাগ থেকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বীজ বপন করা যেতে পারে।
বীজ রোপণ
গাজরের বীজ বপনের আগে বীজ একদিন ভিজিয়ে রাখতে হবে। গাজরের বীজ খুব ছোট হয়, তাই বীজ বপনের সময় বীজের সাথে ছাই বা মাটি গুঁড়া মিশিয়ে নিতে হবে। বীজ ছিটানোর আগে বীজ সকালে ভিজিয়ে রেখে বিকেলে বপন করতে হবে। বীজ ছিটানোর পর মাটি নেড়ে দিতে হবে। চারা গজানোর পর ছোট ছোট চারা গুলি উঠিয়ে ফেলে দিতে হবে এবং মাঝে মাঝে নিড়ানি দিতে হবে। তারপর সেচ দিতে হবে। ছাদে চাষ করার জন্য পানি দিতে হবে। তাহলে, ফলন ভালো পাওয়া যাবে।
যত্ন
গুণগত মানসম্পন্ন ভালো ফলন পেতে হলে গাজর চাষের জমিতে যতটুকু সম্ভব জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। গাজর চাষে আগাছানাশক কার্যকরী। শুষ্ক ও বেশি আর্দ্র ২ রকম জমিই গাজর চাষের পক্ষে ক্ষতিকারক। কাজেই জমিতে পানির চাহিদা বুঝে পানি দিতে হবে।
ফসল তোলা
বীজ বপনের ৩ মাসের মধ্যে গাজর সংগ্রহের উপযোগী হয়। পুষ্ট ও ভালোমানের গাজর পেতে হলে বীজ বোনার ১০০ থেকে ১২৫ দিনের মধ্যে ফসল সংগ্রহ করতে হবে।
সবশেষে
এটা টবে চাষের পদ্ধতি, তাই পোকা-মাকড় সংক্রমণ, বা চিকিৎসা ইত্যাদি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। যেহেতু আপনি আপনার বাসার ছাদে বা বারান্দায় করবেন, তাই তা অবাণিজ্যিক। আর সেই জন্য কোন সমস্যা হলে তার চিকিৎসা করতে হলে উল্টো আরো ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। যদি বড় ধরনের ঝামেলা হয়, নতুন ভাবে চাষ করাই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।
