বারান্দায় বা ছাদের টবে আনারস চাষের পদ্ধতি
আনারস একটি পুষ্টিকর ও সুস্বাদু ফল। টিনজাত খাদ্য হিসেবে আনারস সংরক্ষণ করা যায়। আনারস ফল হিসেবে খাওয়ার পাশাপাশি আনারস দিয়ে জ্যাম, জেলি ও জুস তৈরি করা যায়।

আনারসের পুষ্টিমান ও ঔষধিগুণ
আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি ও সি। প্রতি ১০০ গ্রাম ভক্ষণযোগ্য অংশে পুষ্টি উপাদানের শতকরা পরিমাণ হচ্ছে পানি ৮৬ ভাগ, ভিটামিন-এ ৬০ আই.ইউ, ভিটামিন সি ৬৩ মি.গ্রাম, আমিষ ০.৪ ভাগ, শ্বেতসার ১২ ভাগ, রাইবোফ্লোবিন ১২০ মি.গ্রাম, ক্যালসিয়াম ০.০২ ভাগ, ফসফরাস ০.০১ ভাগ, লৌহ ০.৯ ভাগ, স্নেহ জাতীয় পদার্থ ০.১ ভাগ, খনিজ পদার্থ ০.৫ ভাগ ও অাঁশ ০.৩ ভাগ। পৃথিবীতে উৎপাদিত আনারসের বেশিরভাগই প্রক্রিয়াজাত করা হয়ে থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে আনারসের ফল অ্যালকোহল ও সাইট্রিক এসিড তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। আনারস-এর রসে ব্রোমিলিন নামক এক প্রকার জারক রস থাকে বলে আনারস পরিপাক কাজে সহায়ক। এছাড়া কচি ফলের শাঁস ও পাতার রস মধুর সাথে মিশিয়ে সেবন করলে ক্রিমি দমনে সহায়ক হয়।
স্থান নির্ধারণ
বাসার বারান্দায় বা ছাদে এমন একটি স্থান বেছে নিন যেখানে প্রচুর আলো বাতাস পায়।
টব
চাষের জন্য টব বা প্লাস্টিক অথবা কাঠের কনটেইনারও ব্যবহার করা যায়। মাঝারি সাইজের একটি টব বেছে নিন। প্লাস্টিকের বালতিতেও করতে পারেন।
মাঝারি আকৃতির টবে ১টি গাছের চাষ করা সম্ভব।
মাটি প্রস্তুত
দোআঁশ ও বেলে-দোআঁশ মাটি সব চাইতে উপযোগী৷ মাটিতে প্রচুর জৈব সার থাকতে হয়। এক ভাগ মাটি ও এক ভাগ জৈব সার নিয়ে ভালোভাবে ঝুরা করে মিশিয়ে নিন। মাটি খুব শুকনো হলে একটু পানি দিয়ে ভিজিয়ে মেশান।
চারা প্রস্তুত
স্বাভাবিক অবস্থায় আনারসের বীজ হয় না। বিধায় বিভিন্ন ধরনের চারা/সাকারের মাধ্যমে আনারসের বংশবিস্তার হয়ে থাকে। সাধারণত সাইড সাকার বা পার্শ্ব চারা, সিলপ সাকার বা বোঁটার চারা, মুকুট চারা বা ক্রাউন ও গুঁড়ি চারা বা গ্রাউন্ড সাকার দিয়ে আনারসের বংশবিস্তার হয়ে থাকে। এর মধ্যে বাণিজ্যিক চাষের জন্য সাইড সাকার সর্বোত্তম।
আনারস খেয়ে পাতাটা তো আমরা ফেলেই দেই, তাইনা? আপনি এই ফেলনা পাতা থেকেই নতুন আনারস গাছ পেতে পারেন । এমনকি সেই আনারস গাছে ধরবে নতুন আরেকটি আনারস! তেমন কোনও যত্ন ছাড়াই আনারসের ফেলনা পাতা থেকে আনারস গাছ বোনা যায়। আসুন জেনে নেয়া যাক পদ্ধতিটি।
আনারস খেয়ে পাতাটা তো আমরা ফেলেই দেই, তাইনা? আপনি এই ফেলনা পাতা থেকেই নতুন আনারস গাছ পেতে পারেন । এমনকি সেই আনারস গাছে ধরবে নতুন আরেকটি আনারস! তেমন কোনও যত্ন ছাড়াই আনারসের ফেলনা পাতা থেকে আনারস গাছ বোনা যায়। আসুন জেনে নেয়া যাক পদ্ধতিটি।
- প্রথমে একটি আনারসের থেকে ১ ইঞ্চি পরিমাণ আনারস সহ মাথার পাতা কেটে আলাদা করে রাখুন।
- এই কাটা অংশটি পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। মাঝে মাঝে পানি বদলে দিন। সপ্তাহ দুয়েক পর দেখবেন কাটা অংশ থেকে শিকড়ের মত বের হয়েছে।
- এবার একটি টবে জৈব সার ও মাটি মিশিয়ে নিন।
- মাটিতে সামান্য গর্ত করুন।আনারসের পাতার সঙ্গে থাকা ফলটুকু ঢুকিয়ে মাটি দিয়ে ভালো করে ঢেকে দিন।
- এবার আর কোনও যত্ন না করলেও চলবে। আনারস গাছের জন্য তেমন কোনো খাটুনী করতে হয়না। দুই দিন -দিন পর পর টবে পানি দিলেই গাছ ভালো থাকবে।
চারা রোপণ
অক্টোবর হতে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় আনারসের চারা লাগানোর জন্য উপযুক্ত।
যত্ন
বিশেষ করে প্লাস্টিকে কন্টেইনার ব্যবহার করলে অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়া জন্য আগেই কন্টেইনারটিতে কয়েকটি ছোট ছিদ্র করে নিতে পারেন।
আগাছার উপদ্রব হলে নিড়ানী দিয়ে পরিস্কার করে দিতে হবে। দুই থেকে তিন বার আগাছা পরিস্কার করলে চলে। এতে গাছে আনারসের উৎপাদন বাড়বে। চারা গাছ বেশি লম্বা হলে ৩০ সেমি রেখে আগার পাতা সমান করে কেটে দিতে হবে। তাতে ভাল ফলন পাওয়া যাবে।
ফসল তোলা
চারা রোপণের ১৫ থেকে ১৬ মাস পর ফসল সংগ্রহ কর সম্ভব।
বিশেষ নোট
আনারসের সাথে অনায়াসে আদা, সয়াবিন, সরিষা, কলাই, কচু ইত্যাদি সাথী ফসল হিসেবে চাষ করা যায়।
সবশেষে
এটা টবে চাষের পদ্ধতি, তাই পোকা-মাকড় সংক্রমণ, বা চিকিৎসা ইত্যাদি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। যেহেতু আপনি আপনার বাসার ছাদে বা বারান্দায় করবেন, তাই তা অবাণিজ্যিক। আর সেই জন্য কোন সমস্যা হলে তার চিকিৎসা করতে হলে উল্টো আরো ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। যদি বড় ধরনের ঝামেলা হয়, নতুন ভাবে চাষ করাই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।