উকিল বধ কাব্য
ভাল উকিল কিভাবে চিনবেন বা উকিলদের সাথে কিভাবে ডিল করতে হয় বা দরকার পরলে
কিভাবে তাদের সাইজ করতে হয়, সেটা অনেকে জানতে চেয়েছিলেন, এটা তাদের জন্য
অনেক আগেই লেখা হয়েছিল।
২) কোন উকিল একা আইনের সবদিকে দক্ষ হতে পারেনা, অসম্ভব! আপনার কি দরকার সেটা আগে নিশ্চিত হোন, তারপর সেই অনুযায়ী উকিল বেছে নিন।
৩) রেট জানেন না এমন যে কোন উকিলের চেম্বারে গেলে আগে তার ফী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন, রেট জানার পর যদি আলোচনা শুরু করেন তাহলে উকিল সাহেব ধরে নিবেন আপনি সেই টাকাতে রাজী, ফলে তিনি আপনার কথা বেশী মনোযোগ দিয়ে শুনবেন।
৪) ‘ফী’ র ব্যাপারে একেক উকিল একেক ধরনের এপ্রোচ নেয়, কেউ মূলা-মূলি করে কেউ একেবারেই করেনা, চেম্বারে যাবার আগে পারলে জেনে নিন উনি কোন ক্যাটেগরীর। আগে থেকে জানা সম্ভব না হলে জিজ্ঞেস করুন ফী এমাউন্ট নেগোশিয়েবল কিনা।
৫) আপনার কোন আত্মীয় আইনজীবি সেটা উকিল সাহেবকে বিশদ শোনাতে যাবেন না, আমরা বেশীরভাগ উকিল তাতে প্রচন্ড বিরক্ত হই, তখন আমাদের মনে হয় তাহলে ইনি উনার কাছে না যেয়ে আমার কাছে এসেছেন কেন?
৬) অমুক উকিল এত টাকা বলেছে, আপনি এত চাচ্ছেন কেন, এটা শুনলে অনেক উকিল সাংঘাতিক রাগ হয়, আমি নিজেও তাদের একজন, আমার জীবনের অনেক কেস শুধু এই কারনে আমি সাথে সাথে ফাইল গুটিয়ে (এডভান্স সহ) ফেরত দিয়ে দিয়েছি, এর পর শত অনুরোধেও সেই কেস আর নেইনি।
৭) আপনার বক্তব্য শুনে কোন উকিল যদি আপনাকে ধর্মীয় বা সামাজিক টাইপ নসীহত করা শুরু করে, তাহলে বুঝে নেবেন টাকা পানিতে ফেলেছেন, উকিলের দায়িত্ব আপনাকে আইনগত সহায়তা দেয়া, আপনাকে নৈতিক বা সামাজিক দিক থেকে বিচার করা না। এটা অকেজো আইনজীবির প্রথম চিহ্ন।
৮) কোন চেম্বারে যেয়ে যদি দেখেন আপনার আইনজীবি ধুমিয়ে আড্ডা দিচ্ছে, তাহলে সাবধান, এরা সাধারনতঃ ঢিলা টাইপের হয়।
৯) আপনি যদি সুন্দরী টাইপ এমন কেউ হোন যে তার নিজের সৌন্দর্য্য ‘ব্যাবহার’ করে পুরুষ জাতির কাছ থেকে সুবিধা পেতে অভ্যস্ত , তাহলে দয়া করে আপনার উকিলের সাথে এটা করতে যাবেন না, কোন দক্ষ আইনজীবি আপনার এই টোপ গিলবে না আর যারা গিলবে, তারা দক্ষ না। আবার উকিলদের মধ্যে এমনও আছে যারা প্রথমে আপনার রূপ-যৌবন চেটেপুটে খাবে তারপর আপনার টাকা খাবে।
১০) আপনার কোন আত্মীয়কে জেলে নিয়েছে শুনেই পাগলের মত ছুটে যেয়ে হাতের সামনে যে উকিল পান তাকেই নিয়োগ দিয়ে দিবেন না (বাংলাদেশের পুলিশ এখনো অভিযুক্তদের না খাইয়ে রাখে না, হাজতে বড়জোর মশার কামড় আর গরমে কষ্ট পাবে এর বেশী কিছু না), কোন উকিলকে নিয়োগ দিলে তার অনুমতি ছাড়া আর কোন উকিল সেই কেসে কাজ করতে পারেনা (আগের উকিল যদি সম্মতি না দেয় তবে পাওনা মিটমাট করে তাকে বরখাস্ত করতে পারেন, তবে এক্ষেত্রে প্রায়ই ‘কমলি ছোড়তি নেহী’ অবস্থা হয়)।
১১) যদি আপনার উকিল বলে অন্য আইনজীবি নিয়োগ করতে হবে কিন্তু সেই আইনজীবির সাথে আপনাকে কখনো পরিচয় করায় না, তাহলে বুঝে নেবেন গাভী যেভাবে দোহন করা হয়, আপনাকে সেই ভাবেই দোহন করা হচ্ছে।
১২) কোন ভাল আইনজীবি ক্লায়েন্টকে অকারনে ধমকান না, কোন আইনজীবি যদি অকারনে ভাব বা মুড নিয়ে চলেন তাহলে বুঝে নেবেন সে আসলে অত্যন্ত অদক্ষ একজন আইনজীবি, নিজের অদক্ষতা ঢাকার জন্য এমন করছে।
১৩) আপনি যদি মেয়ে হোন আর আপনার উকিল যদি
আপনাকে অস্বাভাবিক সময়ে এবং জায়গায় (প্রায় ক্ষেত্রে একা) দেখা করতে বলে,
বুঝে নেবেন আপনি আলুর দোষওলা কারো খপ্পড়ে পড়েছেন।
১৪) কোন ভাল আইনজীবি মক্কেলদের সাথে ইমোশনাল সম্পর্কে জড়ায় না, তার আগ্রহ আপনার কেস অবধি, আপনার উকিল যদি প্রায়ই আপনাকে কারনে অকারনে ফোন দেয়, বুঝে নেবেন আপনি সম্ভবতঃ কেস হারতে চলেছেন।
১৫) আইনজীবিরা আইনের উর্ধ্বে না, কোন আইনজীবি যদি পেশাগত অসদাচরন করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে মামলা করলে তার লাইসেন্স বাতিল (অর্থাৎ সে আর উকিল থাকবে না) হয়ে যেতে পারে।
লেখাঃ Kazi Wasimul Haque, Lawyer at Supreme Court of Bangladesh