বিলাসবহুল ১১৩ গাড়ি আবারও নিলামে
ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে গত বছরের আগস্টে বিলাসবহুল ৮৫টি গাড়ি নিলামে
তুলেছিল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তবে পর্যাপ্ত দাম না পাওয়ায় একটি গাড়িও
বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এবার এই ৮৫টিসহ মোট ১১৩টি গাড়ি আবারও নিলামে
তুলেছে কাস্টমস।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে এসব গাড়ি কনটেইনারে করে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আনা হয়। পর্যটকদের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা নিয়ে এসব গাড়ি এনেছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাজ্যের নাগরিকেরা। এই সুবিধার অপব্যবহারের কারণে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কড়াকড়ি আরোপ করে। তখন এসব গাড়ি আর খালাস নেননি তাঁরা। খালাস না নেওয়া এমন গাড়ির সংখ্যা ১২২টি। এর মধ্যে এবার ১১৩টি নিলামে তোলা হয়েছে। মামলার কারণে নয়টি গাড়ি নিলামে তোলা যায়নি।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, ২৩ থেকে ২৪ মে বেলা ২টা পর্যন্ত ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারা দেশের নির্ধারিত ১৮টি স্থানে দরপত্র জমা দেওয়া যাবে। ২৪ মে বেলা দুইটার পর দরদাতাদের উপস্থিতিতে দরপত্র বাক্স খোলা হবে। বন্দরের ৪ নম্বর ফটকে নিলামকেন্দ্র থেকে ক্যাটালগ ও দরপত্র কেনা যাবে ২৩ মে পর্যন্ত।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্টে অনুষ্ঠিত বিলাসবহুল গাড়ির প্রথম নিলামে ৮৫টির মধ্যে ৫৬টি গাড়ি কেনার দরপত্র জমা পড়েছিল। গাড়িভেদে সর্বনিম্ন ২ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১ কোটি ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দর দিয়েছিল বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বিএমডব্লিউ ব্র্যান্ডের একটি গাড়ির সর্বোচ্চ দর ৪৫ লাখ টাকা, মার্সিডিজ ব্র্যান্ডের একটি গাড়ির সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা দর উঠেছিল।
জানতে চাইলে কাস্টমস কমিশনার এ এফ আবদুল্লাহ খান প্রথম আলোকে বলেন, সংরক্ষিত মূল্যের (শুল্ক-করসহ গাড়ির মূল্য) ৬০ শতাংশ দর না পড়লে নিয়মানুযায়ী নিলামের গাড়ি বিক্রি করা যায় না। এ কারণে প্রথম নিলামে একটি গাড়িও বিক্রি করা যায়নি। এবার আরও বড় পরিসরে নিলামে তোলা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একজন প্রতিনিধিও নিলাম প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।
নিলামের নিয়মানুযায়ী, সাধারণত প্রথমবার কাস্টমসের সংরক্ষিত মূল্যের ৬০ শতাংশ বা তদূর্ধ্ব হলে এবং সর্বোচ্চ দরদাতা হলে নিলামে বিক্রির অনুমোদন দিতে পারে কাস্টমস। তবে একই পণ্য প্রথমবার নিলামে বিক্রি না হলে দ্বিতীয়বার নিলামে প্রথমবারের চেয়ে বেশি দর পড়লে বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়। আবার তৃতীয়বার নিলামে যেকোনো দরে বিক্রি করতে পারে কাস্টমস। এ ক্ষেত্রে যেসব গাড়ি দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার নিলামে উঠেছে, সেগুলোই বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই নিলামে অংশ নিতে পারবেন। এ জন্য তিনি যে মূল্যে গাড়ি কেনার দর উল্লেখ করবেন, তার ১০ শতাংশ মূল্য কাস্টমস কমিশনার বরাবর পে-অর্ডার করতে হবে। ব্যক্তি হলে আয়কর সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র দরপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। প্রতিষ্ঠান হলে ট্রেড লাইসেন্স ও আয়কর বা ভ্যাটের সনদ দিতে হবে।
সুত্রঃ প্রথম আলো
প্রকাশঃ ০৮ মে ২০১৭