কম্পিউটার (পঞ্চম পর্ব) যদি কম্পিউটার কোন কারনে হ্যাং করে, বা রিস্টার্ট নেয় বা চালু না হয়
কম্পিউটার দীর্ঘদিন ভালভাবে চালাতে আমাদের হার্ডওয়্যার বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন
নেই, তবে অবশ্যই কিছু সাধারণ তথ্য আমাদের জানতে হবে। যদি তা মনে রাখি ও প্রয়োজনে তা
ব্যবহার করি তবে আমদের অহেতুক সময় ও অর্থ দুটোই রক্ষা পাবে। আমরা পাঁচটি প্রবন্ধে
বিষয়টি জানবো।
এই হল পঞ্চম পর্বঃ
যদি কম্পিউটার কোন কারনে খারাপ হয়েই যায়, তবে কি করবো, চলুন জেনে নেয়া যাক
এই মানচিত্র ফলো করুনঃ
সমস্যা কি পাওয়ার কটে?
আপনার কম্পিউটারের সাথে লাগানো (পাওয়ার কট) সেটি খুলে
নিন তারপর মনিটরে লাগিয়ে দিন। দেখুন মনিটরের লাইট টি জলছে কিনা। যদি না
জ্বলে তবে
পাওয়ার কট টি নষ্ট। নতুন কিনে লাগিয়ে দিন। আর ভালো থাকলে তো লাইট জলবে। এরপর ও যদি
চালু না হয় তা হলে পাওয়ার সাপ্লাই চেক করুন।
সমস্যা কি পাওয়ার সাপ্লাই-তে?
মনে রাখুন, কম্পিউটার যদি বার বার
রিস্টার্ট নেয়, তাহলে তা পাওয়ার সাপ্লাই এর সমস্যা। নতুন একটি
এ.টি.এক্স. পাওয়ার সাপ্লাই ৫০০ টাকায় কিনে তা লাগাতে হবে।
আগে নিশ্চিত হোন!
কেসিং এর ভিতরে থাকা পাওয়ার
সাপ্লাই মাদারবোর্ড
থেকে আলাদা করুন । কি ভাবে করবেন নিচের ছবিটি খেয়াল করুন।
সিলেক্ট করা যায়গায় চাপ দিয়ে টানদিন খুলে যাবে। ভয়
পাবেন না কারন এটা ভয় পাবার মতো কোন কাজ নয়। এর পর পাওয়ার
সাপ্লাই চেক করুন। কি ভাবে
করবেন নিচের ছবি খেয়াল করুন।
কালো আর সবুজ তার দুটি সুইচিং করেদিন ২ ইঞ্চি পরিমান তার
নিন দুই মাথায়
অবশ্যই কভার ছাড়িয়ে নিন। যাতে ভিতরের অংশ দেখা যায়। এরপর কালো আর
সবুজ তারের সাথে
ছবির মত লাগিয়ে দিন। এর পর দেখবেন পাওয়ার
সাপ্লাইটি চালু হবে
যদি ভাল থাকে।আর
খারাপ থাকলে তো চলবে না। খারাপ হলে নতুন একটি লাগিয়ে
নিতে হবে।
সমস্যা কি কুলিং ফ্যানে?
কম্পিউটার বার বার
হ্যাং হওয়ার কারন কুলিং
ফ্যান এ ময়লা জমা। এতে
মাদারবোর্ড ও প্রসেসর পুড়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই কিছুদিন পরপর
কুলিং ফ্যান খুলে পরিষ্কার করতে হবে।
আপনার পাওয়ার সাপ্লাই এর পাখা ভিতরের গরম হাওয়াকে বের করে দেয় এই পাখা যদি জ্যাম
থাকে বা না ঘুরে তখন ভিতরের কোন অংশ ড্যামেজ হয়ে যায়, তখন ঠিকমতো ভোল্ট সাপ্লাই দিতে
পারেনা তখন পিসি হ্যাং করে। আবার পাখা ঠিক মতোই ঘুরছে তবুও পাওয়ার সাপ্লাই এর
জন্য হ্যাং করে থাকে।
কুলিং ফ্যানের এরকম চারটি পা আছে বেশি দিন হয়ে গেলে এদের টেম্পার কমে যায় ফলে যেকোন
একটি পা খুলে যায়। আবার প্রসেসর অনুযায়ী কুলিং ফ্যান লাগানো হয় না ফলে বেশি হিট
হয়ে প্লাস্টিকের পা গুলো নরম হয়ে খুলে যায়।
সমস্যা কি হার্ডডিস্কে?
হার্ডডিস্কের সমস্যা কিনা তা নিশ্চিত হন। কম্পিউটার যদি আকস্মিকভাবে Screen Blue হয়ে যায় ও বিভিন্ন ধরনের লেখা আসে, অথবা BIOS এ লেখা উঠতে পারে “Physical Memory Dumping” বা “Your local Harddisk error” তাহলে হয়ঃ
- হার্ডডিস্কের আংশিক নষ্ট, বা
- হার্ডডিস্কের Cable এ সমস্যা, বা
- হার্ডডিস্কের এর Power এর সমস্যা
আমাদের তখন সমস্যা নিশ্চিত হওয়ার জন্য BIOS এ যেতে হবে > Advanced > Drive Configuration - এখানে হার্ডডিস্কের সব তথ্য প্রদর্শন করবে। যদি প্রদর্শিত না হয়, তাহলে Connection পাচ্ছে না। এক্ষেত্রে Connection ও Power Supply খুলে তা পরিষ্কার করে লাগাতে হবে।
সমস্যা কি র্যামে?
কুলিং ফ্যান খুলে পরিষ্কার
করার পর কাজ না হলে এটা আসলে র্যামের সমস্যা, খুলে পরিষ্কার করলে সমস্যা সমাধান হবে। এরপরও কাজ না হলে এটা র্যাম খুলে পরিষ্কার করে অন্য স্লটে দিলে সমস্যা সমাধান হবে,
সম্ভবত একটি স্লটে সমস্যা!
র্যাম খুলে পরিস্কার করুন যে ভাবে চিত্রে দেখানো হয়েছে।
র্যামে যদি কার্বন ধরে তবে ডিসপ্লে আসবেনা ।
মাদারবের্ডে লাগানো থাকা র্যাম খুলুন সাবধানে খুলবেন। র্যামের দুই মাথায় লক আছে
সেখালে হালকা করে চাপ দিন খুলে যাবে। এরপর পেন্সিল এর লেখা মুছার রাবার দিয়ে র্যামের দাঁতগুলো হালকা ভাবে ঘষে দিন । এর পর আবার লাগিয়ে দিন। খেয়াল করে লাগাবেন। আপনি যদি
ঠিকমত না লাগাতে পারেন তবে পুড়ে যেতে পারে। এরপর দেখুন কাজ হয় কিনা।
এর পর যদি সমস্যা থেকেই যায়, তবে সব র্যাম খুলে ফেলুন। র্যাম না থাকা অবস্থায় যদি পিপ আওয়াজ করে তবে তা র্যামে সমস্যা, তবে যদি কোন আওয়াজ
না দেয়, তবে তা মাদারবোর্ডে সমস্যা।
সমস্যা কি মাদারবোর্ডে?
প্রতিটি মাদারবের্ডের সাথে একটি ব্যাটারি দেখতে পাবেন
এবং ব্যাটারির আশেপাশে একটি ক্যাপ দেখবেন যার নাম (জাম্পার) টান দিয়ে খুলে ফেলুন
এরপর ঔখানে মোট তিনটি পিন আছে যে পিনটি খালি ছিল সেই পিন আর মাঝখানের পিনে জাম্পারটি লাগিয়ে দিন এরপর খুলে ফেলুন। এখন আবার আগের মত লাগিয়ে দিন। ব্যস এবার কাজ শেষ।
এরপর চালু করে দেখুন।
সুবিধার জন্য আরো ছবি দেয়া হল।
মাদারবোর্ডের বয়স বেশি দিন হয়ে গেলে ক্যাপাসিটর গুলো ফুলে যায় তাই ঠিক মতো ভোল্ট
দিতে পারে না, ফলে এর প্রভাব পরে পুরো মাদারবোর্ডের উপর। তখনতো আর পিসি ভাল চলার
কথানা। মাদারবোর্ডের প্রতিটি যন্ত্রাংসের ভোল্ট সাপ্লাই দেয়। তাই ক্যাপাসিটর নস্ট
থাকলে পিসি হ্যাং করবে।
প্রসেসর ঠাণ্ডা না থাকলে সমস্যা হবে
প্রসেসরের উপরে সাদা আঠার মতো সিলিকন পেস্ট ব্যবহার করা হয়। অনেক দিন
হবার পর এই সিলিকন পেস্ট অনেক শক্ত হয়ে যায় ফলে প্রসেসর ঠিক মতো ঠান্ডা হয় না।
তাই হ্যাং হতে পারে।
পুরানো পেস্ট ওঠিয়ে
ফেলুন নতুন পেস্ট লাগয়ে দিন প্রসেসর বেজায় নরমাল থাকবে, ফলে পিসি হ্যাং করবে না।
আপনি যদি সব ঠিকঠাক মত করতে পারেন তবে কাজ হয়ে
যাবে। এরপর ও যদি চালু না হয় তবে আপনাকে বুঝতে হবে হার্ডওয়্যার এর কোন অংশ নস্ট হয়ে গেছে।
তখন আপনার আর কিছু করার নেই তখন সার্ভিস করাতে হবে।








