তেল ছাড়া রান্নার রেসিপি

তেল ছাড়া রাঁধলে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে না। এ কথা সবাই জানেন, রান্নায় তেলের ব্যবহার হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। হৃদরোগবিশেষজ্ঞরা তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে বলেন। অনেকে কর্মস্থলে বসে কাজকর্ম সারেন, তাতে শারীরিক পরিশ্রম খুব একটা হয় না। নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করাও হয়ে ওঠে না। অতিরিক্ত তেল ও চর্বির কারণে তাঁদের শরীরে মেদ জমে স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ দেখা দেয়।

তেল ছাড়া রান্নার স্বাদ -

স্যু শেফরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, খাদ্যগুণ ও স্বাদ নির্ভর করে তেলে নয়, মসলায়। তেল আলাদা কোনো স্বাদ যুক্ত করে না। তেলবিহীন রান্না পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে করোনারি আর্টারি ডিজিস প্রিভেনশন এন্ড রিগ্রেশান (সিএডিপিআর)। সিএডিপিআর উৎসাহিত করেছে তেলশূন্য রান্নায়। সিএডিপিআর রান্না করতে বলেছে বিভিন্ন গন্ধের ও বর্ণের মসলা এবং পানি দিয়ে।

তেলের বদলে কি -

সাওল হার্ট সেন্টার বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহন রায়হান বলেন, ‘তেলের নিজস্ব কোনো স্বাদ নেই। স্বাদ নির্ভর করে মসলার ওপর। রান্নায় ব্যবহৃত সব মসলাই ওষধি গুণাগুণসম্পন্ন। এসবের পরিমিত ব্যবহার শরীরের উপকার, খাবারের স্বাদ বৃদ্ধিসহ তেলের চাহিদা পূরণ করে।’ বিশিষ্ট রন্ধনবিদ ও পুষ্টিবিদ অধ্যাপক সিদ্দিকা কবীর বলেন, ‘তেলবিহীন রান্নায় তেলের পরিবর্তে পানি ব্যবহার করুন। এতে খাবারের স্বাদের তারতম্য হয় না। তেল গ্রহণের ফলে উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও গ্যাস্ট্রিক, আলসার হয়।’ ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতালের হৃদরোগবিশেষজ্ঞ ডা. আবু আজম বলেন, "বিনা তেলের রান্না খেতে চাইলে বিকল্প হিসেবে বাদাম ও সরিষা দিন।"

কী ধরনের রান্না -

হোটেল সারিনার চিফ স্যু শেফ মোফিজুর রহমান বলেন, শাকসবজি, মাছ-মাংস থেকে শুরু করে পোলাও, খিচুড়ি, স্যুপ, ডেজার্ট_সব ধরনের রান্নাই তেল ছাড়া সম্ভব। কী রান্না করবেন আগে থেকেই পরিকল্পনা করে নিন। সে অনুযায়ী মসলা ও অন্যান্য উপকরণ সংগ্রহ করুন। মসলা কষাতে তেলের পরিবর্তে পানি ব্যবহার করুন। সকালের নাশতায় রাখতে পারেন রুটি, তেল ছাড়া স্ন্যাকস, স্যুপ বা সবজি। দুপুরে তেল ছাড়া মাছ, মাংস, ডাল ও সবজি। সঙ্গে সালাদ। একইভাবে রাতের খাবারও। শুধু তেলের পরিবর্তে পানি ব্যবহার করুন।

উৎসব বা পালা-পার্বণে তৈরি করুন তেলবিহীন পোলাও, বিরিয়ানি, খিচুড়ি_সঙ্গে চিকেন রোস্ট, ভুনা মাংস, মাংসের রেজালা বা কাবাব। এ ছাড়া তৈরি করতে পারেন হালুয়া, কাস্টার্ড, ফিরনি, সেমাইসহ সব ধরনের মিষ্টান্ন, রায়তা ও ডেজার্ট। এমনকি সম্ভব আচার, জ্যাম, মোরব্বা, চাটনি ও সসও।

খেয়াল করুন -

* রেসিপি জেনে নিন ও উপকরণ সঠিক পরিমাণে দিন।
* সঠিক পাত্র, ঠিক তাপ, পরিমাণমতো পানি এবং পাত্রের মুখ খোলা বা বন্ধ করে রান্না করার বিষয়গুলো জেনে নিন।
* খাবারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ঠাণ্ডা বা গরম এবং সস ও সালাদ দিয়ে পরিবেশন করুন।